রাফায়েল চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে, সরকারের পক্ষ থেকে দুর্নীতি দমন করার জন্য কমিশন দায়ের করা হয়েছে।

Spread the love

দ্য হিন্দু প্ত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত সরকার ফ্রান্সের সাথে 36টি রাফায়েল বিমান কেনার ব্যাপারে যে চুক্তি করেছে,তার কয়েকদিন আগেই কেন্দ্রীয় সরকার দুর্নীতি বিরোধী জরিমানা রদ করেছে এমনকি আর্থিক উপদেষ্টামন্ডলীর উপদেশ মাফিক এসক্রো অ্যাকাউন্ট এর মাধ্যমে অর্থরাশি প্রদান করার কথাও উপেক্ষা করেছে।

এই নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নরেন্দ্র মোদী সরকারের কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হবে এই বছরের শেষে লোকসভা নির্বাচনের সময়ে।কারন এই সরকার তাদের রাজত্বকালে দুর্নীত দূরীকরনকে অন্যতম কৃতিত্ব বলে দাবী করেছে।

এই ঘটনা উদ্ঘাটনের দু’দিন আগেই ‘দ্য হিন্দু’ তাদের আরেকটি প্রতিবেদনে জানায়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের বিরুদ্ধে আপত্তি জানিয়ে বলেছে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় ফ্রান্স সরকারের সাথে সমান্তরাল ভাবে আর্থিক দরাদরি করে ইন্ডিয়ান নেগোশিয়েটিং টীম পদের ক্ষতিসাধন করেছে।

সংবাদপত্র জানিয়েছে  58 হাজার কোটি টাকার রাফায়েল চুক্তি স্বাক্ষরের আগে উচ্চ স্তরের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অর্থ হচ্ছে সাধারণ ডিফেন্স প্রকিওরমেন্ট প্রসিডিওর (ডিপিপি) ধারা অনুযায়ী  “বেআইনী প্রভাব, এজেন্ট / এজেন্সি কমিশন এবং কোম্পানির অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেসের ব্যবহারের জন্য জরিমানা” প্রোটোকলগুলি থেকে ড্যাসল্ট এভিয়েশন এবং এমবিডিএ ফ্রান্সকে ভারত সরকার সরবরাহ রীতির অদলবদল ঘটিয়ে অব্যহতি দিয়েছে।

যেখানে ড্যাসল্ট হল ভারতীয় বায়ুসেনার রাফায়েল বিমান প্যাকেজের সরবরাহকারী এবং এমবিডিএ ফ্রান্স হল অস্ত্র প্যাকেজের সরবরাহকারী।

24 আগস্ট 2016, আইজিএ ও সংশ্লিষ্ট নথি প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ক্যাবিনেট কমিটির দ্বারা অনুমোদিত হওয়ার পর, 2016 সালের সেপ্টেম্বার মাসে এটি করা হয় প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিলের দ্বারা, যার সভাপতিত্বে ছিলেন তৎকালীন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মনোহর পাররিকের।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে যে নেগোশিয়েটিং টীমের তিন সদস্য – এমপি সিং, উপদেষ্টা (খরচ), এ আর সুলে, আর্থিক ব্যবস্থাপক (বায়ুসেনা), এবং রাজীব ভার্মা, যুগ্ম সম্পাদক ও অধিগ্রহণ ব্যবস্থাপক (বায়ুসেনা) – এই ধারাটি বন্ধ করার ব্যাপারে কঠোরভাবে আপত্তি জানিয়েছিলেন, কিন্তু তা উপেক্ষা করা হয়।

তাদের অসম্মতিসূচক নোটে জানানো হয় যে এই চুক্তি বাণিজ্যিক সরবরাহকারীদের সাথে সরাসরি চুক্তি- ড্যাসোল্ট এবং এমবিডিএ ফ্রান্স- আইজিএর আন্ডার কভার এবং চুক্তি বাতিলের কথা সমীচীন ছিল না, দ্য হিন্দু জানায়।

শুধুমাত্র দুই দেশের সরকারের মধ্যেই এই লেনদেন  হওয়ার প্রথা থাকা সত্ত্বেও ,আইজিএ ট্রান্সফার অফ রাইটস অ্যান্ড অবলিগেশন এর অন্তর্ভুক্তি করেছে। এ ছাড়াও  প্রদত্ত অর্থরাশি ফ্রান্স সরকারের বদলে ফরাসী সরঞ্জাম সরবরাহকারী সংস্থাকে করা হয়েছে। এই আর্থিক বিচক্ষনতার মৌলিক প্রয়োজনীয়তাকে উলঙ্ঘন করা কখনই যুক্তিযুক্ত নয়।

নির্দিষ্ট ভাবে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে সরকার ফ্রান্সের থেকে কোনো ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি বা সার্বভৌমত্ব দাবী না করে শুধুমাত্র আশ্বাসের চিঠি দ্বারা চুক্তিবদ্ধ হয়েছে, যা কখনই ফরাসী প্রধানমন্ত্রীর করা আইনানুগ চুক্তিপত্র নয়।

এসক্রো অ্যাকাউন্টটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সুরক্ষা ছিল কারণ এটি ভারত সরকারকে ফরাসি সরকারকে অর্থ প্রদানের অনুমতি দেয়, যা দুইটি ব্যক্তিগত সংস্থাগুলিতে সময়মত অর্থ প্রদান করবে।

সাবেক অর্থমন্ত্রী ও সিনিয়র কংগ্রেস নেতা পি। চিদাম্বরম সর্বশেষ হিন্দু প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর বলেন” রাফায়েল চুক্তি সরকারের চিন্তাভাবনার থেকেও দ্রুততর সম্পন্ন হয়েছে। ”

উনি টুইট করেন, “কোন সার্বভৌম গ্যারান্টি নেই- কোন ব্যাংক গ্যারান্টি নেই -নেই কোন এসক্রো অ্যাকাউন্ট, তা সত্বেও আগাম হিসাবে একটি বিশাল পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হল। অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাবের জন্য কোনও শাস্তি ধারা নেই, এজেন্সি কমিশনের বিরুদ্ধে কোনও ধারা নেই, সরবরাহকারী অ্যাকাউন্টগুলিতে অ্যাক্সেসের জন্য কনবিভাগ নেই; আর ড্যাসল্ট হাসতে হাসতে ব্যাঙ্কের কাছে টাকা তুলে যাচ্ছে।“

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *