মধ্যস্থতার মাধ্যমে রাম মন্দির সমস্যার সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট

Spread the love

রাম জন্মভূমি আর বাবরি মসজিদ নিয়ে লড়াইয়ের দুই প্রতিদ্বন্দ্বীকে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে যাতে তারা বন্ধুত্বপূর্ণ আপসের মাধ্যমে দশকের পুরনো বিবাদের মধ্যস্থতা করে নেয়, এটা সম্পর্ককে উজ্জীবিত করবে।

বিচারপতি রঞ্জন গোগোয়ের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারকমণ্ডলীর একটা বেঞ্চ প্রস্তাব জানিয়েছেন যে, যদি আপসের মাধ্যমের এই বিবাদ মিটে যাওয়ার “এক শতাংশ সম্ভাবনা” থাকে তাও দুই পক্ষকে মধ্যস্ততা করতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট আরও জানিয়েছে যে আগামী 5ই মার্চ কোর্ট একটা অর্ডার পাস করবে, যে এই মধ্যস্থতার জন্য কোর্ট নিজে কোনও মধ্যস্থতাকারীকে নিয়োগ করবে কিনা।

জাস্টিস এস এ বোবড়ে এই মধ্যস্থতা নিয়ে সওয়াল করেছেন যখন হিন্দু এবং মুসলমান দুই পক্ষই তথ্যের সত্যতা নিয়ে বাদানুবাদ শুরু করে। যে তথ্যগুলি উওরপ্রদেশ সরকার অনুবাদ করে দেয় এবং শীর্ষ আদালতে রেজিস্ট্রি হয় সেগুলি নিয়ে।

“আমরা মধ্যস্থতার ব্যাপারটাকে খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আপনারা দুই পক্ষই মেনে নিয়েছেন ঘটনাটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নয়। এক শতাংশ সুযোগ থাকলেও আমরা মধ্যস্থতার চেষ্টা করব।” বলে জাস্টিস বোবড়ে, ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ অ্যাঁর এস এ নাজীর সম্বলিত বেঞ্চ।

বেঞ্চ জানায়, “আমরা আপনাদের এই বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাইছি। কারণ, আমরা তৃতীয় কোনও ব্যক্তি অথবা সংস্থার মন্তব্য চাইছি না যা এই সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দিতে পারে।”

যেখানে কিছু মুসলমান দল আদালতের এই মধ্যস্থতার ব্যাপারটাকে সমর্থন জানাচ্ছে, রাম লাল্লা বিরাজমানে সহ কিছু দল এর বিরোধিতা করছে। তাদের মতে এর আগেও এরকম অনেক প্রচেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু সেসব কিছুই ব্যর্থ হয়েছে।

বেঞ্চ আরও জানায়, “আপনাদের কি মনে হয় শুধুমাত্র সম্পত্তির জন্যই এই প্রক্রিয়া চলছে? আমরা সম্পত্তির অধিকার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি কিন্তু আমরা এখানে সাম্প্রদায়িক সম্পর্কের উন্নতির কথা ভাবছি।”

আট সপ্তাহের পর শুনানির জন্য প্রধান বিষয় পোস্ট করে বেঞ্চ এবং দলগুলিকে তথ্যের অনুবাদিত কপি ছয় সপ্তাহের মধ্যে দেওয়ার কথা নির্দেশ করে যাতে তারা সত্যের সত্যতা যাচাই করতে পারে। বেঞ্চ আরও জানায় তারা মধ্যস্থতার সম্ভাবনাকে, সময় নষ্ট না করে পরের শুনানির আগেই অন্বেষণ করতে চায়।   

সিনিয়র অ্যাডভোকেট রাজীব ধাওয়ান, মামলাকারী এম সিদ্দিকির পক্ষে সওয়াল করার জন্য উপস্থিত হন। উনি বলেন তারা মধ্যস্থতার এই “গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শকে” সমর্থন করছেন। কিন্তু কোর্টের একটা সময়সীমা বেঁধে দেওয়া উচিৎ, কারণ এই বিতর্কটি খুবই “জটিল সমস্যা”।

বেঞ্চ জানায়, “মধ্যস্থতাকারীর সাথে কথা বলার পরও আমাদের একটা সময়সীমা বেঁধে নিতে হবে।”

রাম বিরাজমানের পক্ষের উকিল জানায় যে তারা “আরও একবার মধ্যস্থতার” বিষয়ে সহমত নন কারণ, এর আগেও এরকম প্রচেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু তা ব্যর্থ হয়েছিল।

উনি জানান, “এর আগের মধ্যস্থতায় এটা স্বীকার করে নেওয়া হয়েছিল যে রামচন্দ্র অয্যোধ্যায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন কিন্তু তা এই জায়গায়(বিতর্কিত) নয়। এর আগে একাধিকবার মধ্যস্থতার চেষ্টা করা হয়েছে।”

মামলাকারীদের এক পক্ষের সিনিয়র উকিল রঞ্জিত কুমার বলেন, আগের পর্বের মধ্যস্থতায় সবকিছু সঠিক ভাবে মেটে নি আর “সকলে চায় এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত সর্বচ্চ আদালতই গ্রহণ করে।”

কুমার বলেন, “মধ্যস্থতা সম্ভব নয়, তাই আদালতই এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুক।”

ধাওয়ান 1991-93 সালের মধ্যে ঘটে যাওয়া মধ্যস্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “বৃহত্তর স্বার্থে আদালত আবার মধ্যস্থতার কথা বলছে। আমাদের দিক থেকে আমরা রাজি।”

প্রথম দিকে, সুপ্রীম কোর্ট বলে, অনুবাদক নথির সত্যতা সম্পর্কে দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত্য থাকলে শুনানি চলতে পারে।

বেঞ্চ সুপ্রিম কোর্টের মহাপরিচালক কর্তৃক দায়ের করা একটি নথির ক্ষেত্রে উল্লেখ করেছেন যে, মামলার বিষয়ে নথিপত্রের ভিত্তিতে “রেকর্ডটিতে 38,147 টি পৃষ্ঠা রয়েছে যা 12,814 টি পৃষ্ঠা হিন্দিতে রয়েছে, 18,607 টি পৃষ্ঠা ইংরেজি, 501 পৃষ্ঠাতে রয়েছে উর্দুতে, 97 টি পৃষ্ঠা গুরুমুখী, 21 টি পৃষ্ঠা সংস্কৃত ভাষায়, 86 টি পৃষ্ঠা অন্যান্য ভাষা স্ক্রিপ্টে রয়েছে, 14 টি পাতায় ছবি রয়েছে এবং 1,729 পৃষ্ঠা একাধিক ভাষার স্ক্রিপ্টের সমন্বয়ে রয়েছে।

মামলাকারী পক্ষের সাথে ভাগ করা রিপোর্ট থেকে জানা যায়, 11,479 পাতার অনুবাদ প্রয়োজন আর শীর্ষ আদালতের আট জন অফিসিয়াল অনুবাদককে যদি এই কাজটা করতে বলা হয় তবে, শুনানির জন্য কেস তৈরি হতে 120 কার্যকারী দিন প্রয়োজন।

বৈদানথন বলেন, অনুবাদটির অনুশীলন ইতিমধ্যেই পরিচালিত হয়েছে এবং দলগুলি তাদের সত্যতা সম্পর্কে কোন আপত্তি উত্থাপন করেনি।

তিনি বলেন, অন্যান্য পক্ষের পক্ষে এটি “যথাযথ নয়” এখন এই সমস্যাটি উত্থাপন করা হয়েছে কারণ অনুবাদক দলগুলি ডিসেম্বর 2017 সালে সকল পক্ষের দ্বারা যাচাইকৃত এবং গৃহীত হয়েছিল।

ধাওয়ান বলেন, তারা উত্তর প্রদেশ সরকারের দায়ের নথিগুলির অনুবাদ করা কপি পরীক্ষা করেন নি এবং তাদের সত্যতা পরীক্ষা করার অধিকার রয়েছে।

আমি আমার অধিকার থেকে এই তথ্যগুলো যাচাই করতে চাই। তিনি আর বলেন, অন্য পক্ষ থেকে যে ধরণের অভিযোগ করা হচ্ছে যে আমরা

মামলায় তর্ক করতে চাই না, সেটা সঠিক নয়। আমরা এই মামলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চাই এবং সত্যতা ছাড়াও, আমরা তথ্যের প্রাসঙ্গিকতার জন্য নথি পরীক্ষা করব “।

তবে বেঞ্চ বলেন, “অনুবাদিত দলিলের সত্যতা সম্পর্কে দলগুলোর মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। দলগুলোর বিরোধ থাকলে আমরা আমাদের সময় নষ্ট করব না। “

বেঞ্চ জানায়, তারা এমন কোনো পরিস্থিতি চায় না যেখানে মামলার শুনানি শুরু হওয়ার পরে, দলগুলো তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে আপত্তি উত্থাপন করে।

2010 সালের এলাহাবাদ হাই কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রীম কোর্টে 14 টি আপিল দাখিল করা হয়েছে, যেগুলি চারটি নাগরিক মামলার ধারায় বিভক্তিত।অযোধ্যায় 2.77 একরের ভূমি তিনটি দলের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করা হবে – সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মহি আখড়া ও রাম লল্লা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *