কাশ্মীরে সেনা-জঙ্গী সংঘর্ষে পুলওয়ামা হামলার প্রধানের মৃত্যু

Spread the love

কর্মকর্তাদের মতে, দক্ষিণ কাশ্মীরের ট্রাল এলাকায় বন্দুকযুদ্ধে 14 ফেব্রুয়ারির পুলওমা হামলার মূল অভিযুক্তের মৃত্যু হয়েছে, যার হামলায় 40 জন সিআরপিএফ জওয়ান শহীদ হন।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, ট্রালের পিংলিশ এলাকায় রবিবার সন্ধ্যা থেকে শুরু করে
সোমবার সকাল পর্যন্ত হওয়া বন্দুকযুদ্ধে জইশ-ই-মহম্মদ-এর(জেএম) দুই জঙ্গির মারা যায়, যার একজন মুদাসির আহমেদ খান।

আধিকারিকরা জানায়, দ্বিতীয় জঙ্গির দেহ এখনো চিহ্নিত করা যায়নি। এর আগে তাকে সাজ্জাদ ভাট বলে মনে করা হচ্ছিল, জইশের একজন সক্রিয় কর্মী, যার গাড়ি পুলওয়ামা হামলায় ব্যবহৃত হয়েছিল।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভাটের ভাই তার দেহ নিতে অস্বীকার করে জানায়, মৃতদেহটি অতিরিক্ত পুড়ে যাওয়ায় সনাক্ত করা সম্ভব নয়। খানের পরিবারের সদস্যরা খানের দেহ নিয়ে যায়।

পুলওয়ামার সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের (সিআরপিএফ) কনভয়ের উপর হামলার ঘটনায় “প্রধান চক্রান্তকারী” ছিল খান, সেনাপ্রধান কনওয়াল সিং ধিলন এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই কথা জানান।

জম্মু ও কাশ্মিরের সিআরপিএফ ইন্সপেক্টর জেনারেল (অপারেশনস) জুলফিকার হাসান বলেন, “মুদাসির আহমেদ খান ওরফে ‘মহম্মদ ভাই’ পুলওয়ামা জেলার ট্রালের পিংলিশ এলাকায় সংঘর্ষে নিহত দুই জঙ্গিদের একজন।”

যদিও তিনি এই ঘটনাটিকে 14 ফেব্রুয়ারির ঘটনার প্রতিশোধ হিসেবে চিহ্নিত করতে প্রত্যাখ্যান করেন। হাসান বলেন, “আমরা শান্তি রক্ষাকারী এবং আমরা আশ্বাস দিতে পারি ওই দেশের বিরুদ্ধে কেউ একটা বন্ধুকও তুলে ধরবে না।”

পুলিশ ইন্সপেক্টর জেনারেল, কাশ্মির রেঞ্জ, স্বয়ং প্রকাশ পানি বলেন, দ্বিতীয় জঙ্গিটির পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।

“আমরা জানি যে তার কোড ‘খালিদ’ ছিল। আমরা তার প্রকৃত পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি, “তিনি আরও বলেন, মৃতদেহটি একজন পাকিস্তানীর বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

তিনি বলেন, খানের হত্যাকান্ড জেইএমের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

পানি জানায়, কিছু উপাদান তাদের গোপন আস্তানা থেকে পাওয়া গেছে যা, পুলওয়ামার হামলার তদন্তে জাতীয় তদন্ত সংস্থার (এনআইএ) সাথে ভাগ করা হবে, পিটিআই সুত্রে খবর।


হাসান বলেন, খানের পরিবারের সদস্যরা তার লাশ নিয়ে গেছে আর তাকে ভালোভাবে কবর দেওয়া হয়েছে।

জঙ্গিদের উপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত খবর অর্জনের পর পিংলিশে সরকারি বাহিনী একটি কর্ডন এবং অনুসন্ধান অপারেশন চালু করে।

কর্মকর্তারা বলেন, জঙ্গিরা অনুসন্ধান দলের উপর গুলি করতে শুরু করলে অনুসন্ধান কার্য এনকাউন্টারে বদলে যায়।

লেফটন্যান্ট জেনারেল ধিলন বলেন, ফেব্রুয়ারি হামলার পর থেকেই বাহিনী কর্তৃক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে 18 জঙ্গি নিহত হয়েছে।

ভাট, যাকে কর্মকর্তারা আগে এই সংঘর্ষে নিহত দ্বিতীয় ব্যক্তি বলে চিহ্নিত করেছিলেন, ঘটনার 10 দিন আগে পুলওয়ামা হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি কিনেছিলেন।

ভ্যানটি হল- একটি মারুতি ইকো মিনি ভ্যান – যা বিস্ফোরক দিয়ে ঠাসা হয়েছিল আর পরে আদিল আহমেদ ডার সিআরপিএফ বাসের ঠিক পাশে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল। কর্মকর্তারা জানান, ডার খানের সঙ্গে ক্রমাগত যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছিল।

এ পর্যন্ত পাওয়া প্রমাণ থেকে জানা যায়, সিকিউরিটি কর্মকর্তারা জানান, 23 বছর বয়সী খান একজন স্নাতক ও ইলেক্ট্রিশিয়ান। সে পুলওয়ামার বাসিন্দা আর সেই বিস্ফোরনের জন্য গাড়ি এবং বিস্ফোরকের ব্যবস্থা করেছিল।

ট্রালের মীর মহল্লার বাসিন্দা খান 2017 সালে জেইএম-এ যোগদান করে এবং পরে নূর মোহাম্মদ তান্ত্রে ওরফে নূর ট্রালির দলটিতে যোগ দেয়, মনে করা হয় তার জন্যই দলটি কাশ্মীর উপত্যকায় পুনরুজ্জীবিত হয়।

কিন্তু 2017 সালের ডিসেম্বরে তান্ত্রে নিহত হওয়ার পর, 2014 সালের 14 জানুয়ারি মাসে খান তার বাড়ির কাছ থেকে অদৃশ্য হওয়ার পর থেকেই সক্রিয় হয়।

স্নাতক সম্পন্ন করার পর, খান ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (আইটিআই) থেকে ইলেক্ট্রিশিয়ান হিসেবে এক বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করে।

14 ই ফেব্রুয়ারির হামলার তদন্তকারী জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ) 27 ফেব্রুয়ারি খানের বাসভবনে অনুসন্ধান চালায়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *