উত্তর কোরিয়া আমেরিকার সাথে আলোচনা বন্ধ করতে পারে

Spread the love

আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন-এর মধ্যে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা স্থগিত করার কথা বিবেচনা করছে কিম জং উন সরকার এবং ওয়াশিংটন কোনো ছাড় না দিলে ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু পরীক্ষার উপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনা করতে পারে।

উত্তর কোরিয়ার রাজধানী থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিদেশ প্রতিমন্ত্রী চো সোন হুই বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম এবং উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যে হ্যানয়িতে গত মাসের শীর্ষ সম্মেলনে ভেস্তে যাওয়ার জন্য শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তারাই দায়ী। রাশিয়ার সংবাদ সংস্থা টিএএসএস বিদেশ প্রতিমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে জানায়, “আমাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাহিদাগুলি (হ্যানয় সামিটে) কোনও ভাবে মেনে নেওয়ার কোনও উদ্দেশ্য নেই এবং আমরাও এই ধরনের আলোচনার জন্য আর আগ্রহীও নই”।

চো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেক্রেটারি অব স্টেট মাইক পম্পিও এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন “বৈষম্য ও অবিশ্বাসের আবহাওয়া সৃষ্টি করে উত্তর কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আলোচনার জন্য গঠনমূলক প্রচেষ্টাকে বাধা দিয়েছেন”।


এছাড়াও চো বলেন, কিম শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরমাণু আলোচনার বিষয়ে তার অবস্থান সম্পর্কে এবং উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপগুলি সম্পর্কে একটি সরকারী ঘোষণাপত্র ঘোষণা করতে যাচ্ছেন।


অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে , চো সোন হুই বলেন ওয়াশিংটন এই বৈঠকে একটি সুবর্ণ সুযোগ ছুড়ে ফেলে দিয়েছে এবং সতর্ক করেন যে কিম মিসাইল লঞ্চ এবং পরমাণু পরীক্ষার উপর লাগু করায় স্থগিতাদেশ নিয়ে পুনরায় চিন্তা করতে পারেন।


এপি তাকে উদ্ধৃত করে বলেছেন “আমি এটা পরিষ্কার করতে চাই যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুন্ডাদের মতন অবস্থান অবশেষে পরিস্থিতিকে বিপদে ফেলবে,” কিন্তু তিনি যোগ করেছেন: “দুই শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক এখনও ভাল এবং রসায়ন অদ্ভুতভাবে দুর্দান্ত।”

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দাবী ছিল পিওং ইয়াং এর পারমানবিক কার্যকলাপ বন্ধ করা, আর উত্তর কোরিয়ার দাবী ছিল তাদের উপর লাঘু হওয়া পারমানবিক মিসাইল পরীক্ষার উপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা তুলেন নেওয়ার, যেটা বহু বছর ধরে ইউনাইটেড নেশনের নিরাপত্তা পারিষদ এর পরামর্শে আরোপিত হয়।

হানোই বৈঠকের পর চো বলেছেন, উত্তর আমেরিকার সঙ্গে তার চুক্তি অনুযায় কিছুটা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পরে কিম তার প্রধান পরিচিত পারমাণবিক প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করার জন্য অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে তার প্রতিশ্রুতি হারায়।

ওয়াশিংটনে এই সপ্তাহে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি স্টিফেন বায়গুণ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের কার্যকলাপ চালিয়ে যেতে সক্ষম বলে আশা করছে। যদিও তিনি নতুন আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে এরকম কোনও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেননি।


বায়গুন বলেছেন, “কূটনীতিক সম্পর্ক এখনও দারুণভাবে জীবিত,” তবে আলোচনায় আরেক প্রস্থ হবে কিনা তা উল্লেখ করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *