রঘুরাম রাজন ন্যায় প্রকল্প প্রসঙ্গে তার মতামত জানালেন রাহুল গান্ধীকে

Spread the love


সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, প্রাক্তন রিজার্ভ ব্যাংকের গভর্নর রঘুরাম রাজন বলেছেন, তিনি ‘ন্যায়’ প্রকল্পে তার সুচিন্তিত মতামত কংগ্রেসের নেতৃত্বের কাছে দিয়েছেন, যেখানে প্রধান বিরোধী দল প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে নির্বাচনের পর ক্ষমতায় এলে তারা প্রতি পরিবারের অন্তত মাসিক 12,000 টাকা আয় সুনিশ্চিত করবে।

রাজন এছাড়াও বলেছেন,এই পরিকল্পনাটি বাস্তবসম্মত এবং “মূল্যবান” চিন্তাভাবনা,যদি এটা শুধু ইস্তেহারে না থেকে আমরা বাস্তবায়িত করতে পারি।

তিনি বলেন, বিজেপি ক্ষুদ্র কৃষকদের নগদ স্থানান্তরের মাধ্যমে এবং কংগ্রেস তার ন্যায়ে পরিকল্পনার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেখিয়েছে যে অর্থের পুনর্বন্টনই দারিদ্র্য দূরীকরণের উপায়।

তিনি বলেন, সরকারের যে দুইটি বিষয় মনে রাখা উচিত তা হল, বাজেটে উপলব্ধ স্থান এবং বিকৃত ভাতা প্রকল্পগুলি হ্রাস করা, কারণ এগুলি নগদ অর্থ বিতরণ প্রকল্পগুলির মতনই বেড়ে চলেছে ।

তিনি নুন্যতম আয় যোজনা প্রকল্পের বিষয়ে কংগ্রেস হাইকম্যান্ডকে পরামর্শ দিয়েছেন কিনা এই প্রশ্নের উত্তরে রাজন বলেন, ” হ্যাঁ আমি এই প্রকল্পের বিষয়ে নিজের মতামত দিয়েছি।”

তিনি বলেন, তিনি দলের সভাপতি রাহুল গান্ধী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও সাবেক অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম সহ কংগ্রেসের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।


তবে, জল্পনা অনুযায়ী পরবর্তী অর্থমন্ত্রী হিসাবে মুলস্রোতে ফিরে আসবেন কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে রাজন বলেন, এটি একটি কল্পনাপ্রসূত প্রশ্ন।


“আমি যেখানে আছি, আমি খুবই খুশি … আমি একজন কেতাবি মানুষ এবং আমি পরামর্শ দিতে পারলেই খুশি,” বলেছেন রাজন, যিনি তার নতুন বই দ্য থার্ড পিলার এর উদ্বোধনে শহরে পা রেখেছিলেন।

সমালোচকদের বিপরীতে, রাজন বলেন, এ ধরনের একটি প্রকল্প নিয়ে চিন্তাভাবনা করা যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক এবং শুধু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতির থেকেও এগিয়ে আমাদের এটা বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, “শ্রমিকদের নিয়মিত অবদানের জন্য, তাদের জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা এই সমস্যা সমাধানের একটি উপায় হতে পারে।

রাজন বলেন, “আমার ধারনা কংগ্রেস যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার নকশা তৈরি হয়ে যাবে। আমরা পথ বের করে নেব কিভাবে এটা করতে হবে। তারা একটি কমিটি, অগ্রণী প্রকল্প এবং পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন প্রস্তাব করেছে।”

প্রাক্তন গভর্নর বলেছেন, সমালোচকরা এই প্রকল্পটি “ভুল ভাবে পড়েছেন”, যারা দাবি করেছেন যে এই কাজগুলি জনগণকে কাজ করতে উৎসাহিত করবে না। তিনি বলেন, এই ধরনের একটি প্রকল্প, মাঝারি মেয়াদে মানুষের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে এবং এটি অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে সহায়তা করতে পারে।

এসোসিয়েশন অব ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস-এর সাম্প্রতিক সার্ভেতে বলা হয়েছে আগামী মে মাসে শুরু হওয়া নির্বাচনে আগে জনগণের কাছে চাকরির মন্দাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। রাজন বলেন, নতুন সরকারকে তরুণদের চাকরি তৈরি ও দক্ষতাবৃদ্ধি উভয়ের উপর মনোযোগ দিতে হবে। পাশাপাশি সরকারের নিজস্ব দক্ষতাবৃদ্ধির কথাও ভাবতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *