পাকিস্তান,খাসোগীর ছবি ইন্টারনেটে পোস্ট করা সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিল

Spread the love

গ্লোবাল মিডিয়া ওয়াচডগ রিপোর্টারস সান ফ্রন্টিয়ারস (আরএসএফ) যা রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস নামেও পরিচিত জানায় যে, পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয় মৃত সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগীর ছবি পোস্ট করেছেন এমন ছয়জন সাংবাদিকের উপর তদন্তের আদেশ দিয়েছে।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-এর মতে, আরএসএফ-এর বক্তব্যে এটা একটা বিস্ময়কর তদন্ত ছিল, ” মামলাটি নিন্দনীয়, বিশেষ করে পাকিস্তানী পুলিশের বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকদের প্রতি অতীত আচরণের জন্য”।

অভ্যন্তরীণ মন্ত্রণালয়ের অংশ, ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সির সাইবারক্রাইম উইং 13 মার্চ তারিখে তদন্তের আদেশ দিয়েছে।

যে পত্রটি সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে সেটি এএফপি স্বাধীনভাবে এই যাচাই করতে পারেনি এবং পাকিস্তানি কর্মকর্তারা এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাননি।

আরএসএফের মতে, ফেব্রুয়ারি মাসে পাকিস্তানের সফরকালে সৌদি বাদশাহ প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের বিরুদ্ধে “একটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারাভিযান” এর অংশ হিসাবে সাংবাদিকদের নাম প্রকাশ করেছে ফেডেরাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি।

ওয়াচডগ বলেছে, এই প্রচারাভিযানে “রাজকুমারের সফর জুড়ে …বার বার জামাল খাসগির ছবি পোস্ট করা হয়েছে … “,

ইস্তানবুলের সৌদি কনস্যুলেটে খাশগি খুনের পর রাজকুমার প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ার পাঁচ মাস পর এই সফরে তিনি আসেন।

খাশগি, রাজকুমারের ভীষণ সমালোচক ছিলেন, এবং তার হত্যাকান্ড একটি কূটনৈতিক সংকট জাগিয়ে তুলেছিল।

সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্কযুক্ত পাকিস্তান এই সফরকালে সৌদির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ চাইছিল।

চিঠিতে বলা হয়েছে, খাসগীর ছবি অনলাইনে দেখিয়ে, সফরকারী রাজকুমারের প্রতি “খুব অবমাননাকর বার্তা প্রকাশ করা হয়েছে”।

আরএসএফ এর এশিয়া-প্যাসিফিক ডেস্কের প্রধান ড্যানিয়েল বাস্টার্ড বলেন, “সাংবাদিকদের এই ধরনের হয়রানির একমাত্র অপরাধ অনলাইনে এমন কিছু পোস্ট করা যা সরকারকে অসন্তুষ্ট করে; এভাবেই পাকিস্তানি রাজনৈতিক সংস্থাগুলি ভিন্নমতালম্বীদের প্রতি আচরণ করে ।” এফআইএর এই তদন্তের দ্বারা চিহ্নিত ছয়জন সাংবাদিক সামাজিক নেটওয়ার্কগুলিতে স্পষ্টভাষী হওয়ার জন্য পরিচিত। যেটা এইমুহূর্তে একমাত্র স্থান যেখানে তারা নিজেদেরকে প্রকাশ্যে ব্যক্ত করতে পারে। “

নিয়মিতভাবে সাংবাদিকদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশগুলির মধ্যে পাকিস্তান অবস্থান করছে। দেশের শক্তিশালী সেনাবাহিনীর সমালোচনামূলক কভারেজকে লাল পতাকা বলে মনে করা হয়। নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদ করলে
সাংবাদিকদের কখন আটক করা হয়,শারীরিক নির্যাতন করা হয় এবং এমনকি হত্যাও করা হয়।

উল্লেখ্য, ইসলামাবাদ সফরকালে সৌদি রাজকুমার 20 বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *