জেট স্টাফরা ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে এফআইআর করতে চায়

Spread the love

দেনায় জর্জরিত জেট এয়ারওয়েজের একজন কর্মচারী আত্মহত্যা করেছেন এবং অন্যান্য অনেকজন কর্মচারীও আর্থিক সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন।তাই জেট এর কর্মচারীরা এই এয়ারলাইনের বিরুদ্ধে মুম্বাই পুলিশের কাছে এফআইআর দায়ের করতে চেয়েছে্ন।

অল ইন্ডিয়া জেট এয়ারওয়েজ অ্যান্ড স্টাফ অ্যাসোসিয়েশন (এআইজেওএসএ) মুম্বাইয়ের পুলিশ কমিশনারকে লিখিত আবেদন জানিয়ে ওই এয়ারলাইনের ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে নন-পেমেন্টের জন্য একটা এফআইআর দায়ের করার অনুরোধ করেছে।

জেটের কর্মচারীরা মুম্বাইয়ের সাহার থানায় এই একই ঘটনার বিরুদ্ধে একটা অভিযোগ দায়ের করেছেন, চিঠির সাথে পুলিশ কমিশনারের কাছে এই অভিযোগপত্রের একটা কপিও পাঠানো হয়েছে।

কমিশনারকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, প্রদেয় মার্চ মাসের বেতন যা পয়লা এপ্রিল প্রদান করার কথা, সেই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তারা 12 এপ্রিল কোম্পানির ম্যানেজমেন্টের সাথে দেখা করেন। কর্মীরা আরও জানান, তারা সিইও এবং এইচআর বিভাগের সাথে 25শে এপ্রিল কমিটির সদস্যদের আলোচনা হলেও তারা জানায় যে কোনো ধরণের পেমেন্ট অবিলম্বে দেওয়া সম্ভব নয়।

কমিশানারকে প্রেরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়,”কোন ধরণের পেমেন্টের আশ্বাস না পাওয়ার পর আপনার কাছে এই চিঠি আমরা পাঠাচ্ছি,সঙ্গে সাহার পুলিশ স্টেশনে দায়েরকৃত অভিযোগপত্রের অনুলিপিও আপনার সুবিধার্তে আমরা প্রেরণ করলাম।”

এর সাথে যোগ করা হয়,”এর ফলস্বরূপ আমরা আপনাকে জানাতে চাই যে বেতন ও সুবিধা না প্রদান করা আইনের গুরুতর লঙ্ঘন এবং আমরা মনে করি যে কর্মী-নিয়োগকারীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি অপরাধমূলক আইন লঙ্ঘন এবং আমাদের দাবী অনুযায়ী এমতাবস্থায় এয়ারওয়েজের বিরুদ্ধে এফআইআর নিবন্ধিত হওয়া উচিৎ।”

কর্মচারীরা আরও বলেন, এমনকি সংবিধিবদ্ধ ডিডাকশানও তাদের খাতে জমা দেওয়া হচ্ছেনা।

জেট এয়ারওয়েজ সম্প্রতি 1লা মে থেকে তার কর্মীদের জন্য চিকিৎসা বিমা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে, কারণ স্থগিত এয়ালাইনটি আর এই বিমার প্রিমিয়াম জমা করতে পারবে না।

“ঋণগ্রহীতা বা নিকট ভবিষ্যতে আসন্ন তহবিলের অন্য কোন উৎস থেকে কোনোরূপ জরুরি তহবিল না আসার কারণে আমাদের এমন একটি পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে যেখানে আমরা আমাদের কর্মীদের মেডিক্লেমের প্রিমিয়াম জমা করতে সক্ষম নই”। চীফ পিপল অফিসার রাহুল তানেজা কর্মচারীদের একটি ইমেল মারফত বলেছেন, “30শে এপ্রিল, 2019 তারিখের মধ্যরাতে গ্রুপ মেডিক্লেম পলিসিটি শেষ হয়ে গেছে।”

অতীতের মামলার উল্লেখ করে, চিঠিতে কর্মচারীরা আরও যোগ করেছেন, “আমরা আপনাকে জানাতে চাই যে কিংফিশার এয়ারলাইনস এবং কম্বাটা এভিয়েশন মতন অতীতের বিমান সংস্থাগুলি কর্মচারীদের বেতন এবং প্রাপ্য পরিশোধ করেনি এবং
এবং কোম্পানির মালিকরা অপরাধমূলক কর্মের শাস্তি এড়ানোর জন্য দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছে। অতএব, আমরা প্রার্থনা করি যে আমাদের অভিযোগ নিবন্ধিত হোক এবং FIR অনুযায়ী কোম্পানির চেয়ারম্যান, পরিচালনা পর্ষদ এবং কোম্পানির সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট পাসপোর্ট অবরুদ্ধ করার পদক্ষেপ নেওয়া হোক, কারণ তাদের মধ্যে অনেকেই বিদেশী নাগরিক এবং তারা ভারতে ওয়ার্ক পারমিটের অধীনে কর্মলিপ্ত। “

বিমানব্যবসায় 25 বছর পর কাটানোর পর, জেট এয়ারওয়েজ 17ই এপ্রিল ঘোষণা করে যে তারা সাময়িকভাবে আর্থিক সংকটের কারণে তাদের সবধরণের অপারেশন স্থগিত করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *