পেটিএম জালিয়াতি মামলায় নতুন মোড় অভিযুক্ত সোনিয়া ধাওয়ান কোম্পানিতে ফিরে এসেছেন

Spread the love

পেটিএম এর প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও বিজয় শেখর শর্মার কাছে 10 কোটি টাকা দাবী করার অপরাধে ওনার পার্সোনাল সেক্রেটারি সহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এই ঘটনাটি, ডিজিট্যাল ট্রাঞ্জাকশান কোম্পানি পেটিএমে ভাইস প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে ডেটা চুরি যাওয়া এবং ব্ল্যাকমেলের ঘটনা কর্পোরেট জগতকে কলুষিত করেছে। টাকা চেয়ে ব্ল্যাকমেল করার প্রমাণ হিসেবে পুলিশ হুমকি দেওয়া কিছু হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ, ইন্টারনেট কল আর অন্য ফোনে রেকর্ড করা অডিও ফাইল এবং অন্যান্য কিছু প্রমাণ আদালতে পেশ করে এবং অভিযুক্ত ওই তিনজন ব্যক্তির গ্রেফতারের দাবী করে। পুলিশি তদন্ত থেকে জানা যায়, বিজয় শেখরের পার্সোনাল সেক্রেটারি সোনিয়া ধাওয়ান গত কিছুদিন ধরে নিজের নামে সম্পত্তি কেনার জন্য তার বসের কাছ থেকে টাকার দাবী করছিল। কিন্তু বিজয় শেখর টাকা দেওয়ার কথা এড়িয়ে যাচ্ছিলেন। পুলিশ মনে করছে হয়ত এই কারণেই সোনিয়া কারোর সাথে মিলে প্ল্যান করে বিজয়কে ব্ল্যাকমেল করছিল।

এই মামলায় সেক্টর 20 পুলিশ সোনিয়া ধাওয়ান, তার স্বামী রূপক জৈন ও তার সহকর্মী দেবেন্দ্র কুমারকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ সোনিয়া ধাওয়ানকে সেক্টর 39 এ অবস্থিত মহিলা থানায় সারারাত রাখার পর পরের দিন সকালে কোর্টে হাজির করে। থানার ইনচার্জ মনোজ পন্থের বক্তব্য, “সেক্টর 120 তে অবস্থিত সোনিয়ার প্রতীক লরিয়াল সোসাইটির ফ্ল্যাটের তল্লাশি নেওয়া হয়। ওখান থেকে একটা হার্ড ডিস্ক বাজেয়াপ্ত হয়েছে।”

তবে সোনিয়া কোম্পানি থেকে চুরি করা ডেটা সুরক্ষিত জায়গায় রেখেছিলেন। ওই ডেটার একটা কপি দেবেন্দ্র কুমার এবং রোহিত চোমওয়ালের কাছে আছে বলে জানা যাচ্ছে। যে হার্ড ডিস্ক পাওয়া গেছে তাতে কোম্পানির অতি গোপনীয় কিছু তথ্য আছে বলে জানা যাচ্ছে। যাতে কোম্পানির জন্মলগ্ন থেকে সম্প্রতি নোটবন্দির সময়ে দ্রুত ব্যবসা বৃদ্ধি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা এবং প্রচুর পাসওয়ার্ড আছে। অন্যদিকে, কোলকাতা নিবাসী রোহিত এখনও পলাতক। পুরো ঘটনার তদন্ত করতে সাইবার সেলকেও নিযুক্ত করা হয়েছে। হার্ড ডিস্ক, মোবাইল এবং অন্যান্য নথি উদ্ধার করা হয়েছে।

8 বছরে সোনিয়ার বেতন বেড়ে 7 লাখ থেকে 70 লাখ টাকা হয়।

এই মামলার তদন্ত আধিকারিকদের মনে হয়েছে সোনিয়া এই ঘটনায় একজন “ছদ্মবেশীর” ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, এই প্ল্যানের মাস্টার মাইন্ড অন্য কেউ। কিন্তু সোনিয়া কোলকাতায় উপস্থিত চতুর্থ ব্যক্তির পণের টাকা চেয়ে করা ফোন কলকে কন্ট্রোল করার সাথে সাথে তার নিজের বসকেও পেমেন্ট করার জন্য রাজী করাচ্ছিলেন। উনি এমন কেন করছিলেন? পুলিশ আধিকারিকরা ইটিকে বলে, “উনি দুই দিকেই যোগাযোগ রেখে চলছিলেন। উনি জানতেন কল আসছে। ” অভিযোগকারী বিজয় শেখর শর্মার জানান ধাওয়ান ওনাকে বলেছিলেন, ” আপনি এখন পেমেন্ট করে দিন, কে জানে কি ডেটা আছে।”

উল্লেখ্য, এই সব অভিযোগের পরেও সোনিয়া পুনরায় কোম্পানিতে যোগ দিয়েছেন। যদিও কোম্পানির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তা জানানো হয় নি। কিন্তু এখন প্রশ্ন হল, কোম্পানির সিইও বিজয় কি সোনিয়াকে শোধরানোর জন্য একটা সুযোগ দিলেন, না কোনও চাপের কাছে বাধ্য হয়ে সোনিয়াকে কোম্পানিতে ফেরত আনতে বাধ্য হলেন। যাইহোক, যদি বিজয় সোনিয়াকে ক্ষমা করে দিয়ে তাকে শুধরে যাওয়ার একটা সুযোগ দিয়ে থাকেন তবে সোনিয়ার উচিৎ, এই সুযোগ ব্যবহার করে সৎভাবে কাজ করে নিজের সুখ্যাতি পুনরায় অর্জন করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *