নাসা কিভাবে তেজস্ক্রিয় বেল্ট অতিক্রম করে চাঁদে মহাকাশযান পাঠালো

Spread the love

2019 সালে চাঁদে মানুষের পদার্পণের 50 বছর পূর্ণ হবে। 1969 সালের 20 জুলাই, অ্যাপোলো 11 চাঁদের মাটিতে নামে, এবং সেখান থেকে সরাসরি সম্প্রচারের মাধ্যমে চাঁদের পরিবেশ, চাঁদ থেকে পৃথিবীকে কেমন দেখতে লাগে, চাঁদে কাজে ব্যস্ত মহাকাশচারীদের দেখানো হয়।

কিন্তু সম্প্রতি চাঁদে মানুষের পা রাখার এই সাফল্যকে নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছে। কেউ কেউ মনে করেন মানুষ কোনোদিন চাঁদে পৌঁছতেই পারে নি ভ্যান অ্যালেন রেডিয়েশন বেল্টের উপস্থিতির জন্য। ধারণাটা হল, মহাকাশে যেতে হলে যেকোনো মহাকাশচারীকেই এই ভ্যান অ্যালেন বেল্টের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে, আর এমনটা করতে গেলে তাদের শরীরে প্রাণঘাতী মাত্রায় তেজস্ক্রিয় প্রবেশ করবে।

এই বেল্টগুলি আসলে পৃথিবীর চুম্বকীয় ক্ষেত্রের ফল যা চুম্বকীয় ফাঁদ হিসেবে কাজ করে- যা অনেক সময় সৌর ঝ বিভিন্ন পদার্থকে আটক করে এবং কখনও কখনও বেল্টগুলির মধ্যে তাদের কক্ষপথগুলিকে আলোর গতিতে ত্বরান্বিত করে। এই বেল্টগুলি দুটো নেস্টেড ডোনাটের মত দেখতে হয় আর সূর্যের কার্যকারিতার উপর নির্ভর করে এগুলির আকারের পরিবর্তন হয়। বিভিন্ন সূত্রের মতে, আভ্যন্তরীণ বেল্টটি ভূপৃষ্ঠ থেকে 600-1,600 কিমি উচ্চতায় শুরু হয় 9,600-13,000 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে। একই রকমভাবে বাইরের বেল্টটি ভূপৃষ্ঠ থেকে 13,500-19,000 উচ্চতায় শুরু হয় এবং প্রায় 40,000 কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।

চাঁদে পৌছনোর একমাত্র রাস্তা হল উত্তর বা দক্ষিণ চুম্বকীয় মেরু, কারণ ওখানে কোনও তেজস্ক্রিয় বেল্ট নেই। যদিও এইভাবে চাঁদের কক্ষপথে প্রবেশ করতে হলে অনেক জ্বালানি খরচ হয়।

ভ্যান অ্যালেন যার নামে এই রেডিয়েশন বেল্টের নামকরণ করা হয়েছে, তার তথ্যের উপর ভিত্তি করে নাসা 2012 সালে একটি প্রোব লঞ্চ করে, যেখানে নাসার বিজ্ঞানিরা জানতে পারেন এই তেজস্ক্রিয় বেল্টের আভ্যন্তরীণ বেল্টটি উচ্চ-শক্তিসম্পন্ন প্রোটন ও কম শক্তিশালী ইলেক্ট্রন দিয়ে তৈরি। তারা জানতে পারেন তেজস্ক্রিয়তার পরিমাণ পৃথিবীর কক্ষপথে তুলনায় অনেক কম।

সম্প্রতি নাসা স্বীকার করে নিয়েছে যে তারা শক্তিশালী তেজস্ক্রিয়তার আশঙ্কায় তাদের মহাকাশযানকে ব্যাপকভাবে সুরক্ষিত বানানোর জন্য অনেক বেশি টাকা খরচ করে ফেলেছে। তবে পৃথিবীর বাইরে মহাকাশের পরিবেশ অন্যভাবে বিপদজনক হতে পারে।

অ্যাপোলো 12 চাঁদে রেখে আসা সোলার উইন্ড স্পেক্ট্রোমিটারের সাহায্যে জানা গেছে যে, পৃথিবীর চুম্বকিয় ক্ষেত্রের বাইরে প্রতি ঘন সেন্টিমিটারে 10-20 টি প্রোটন 400-650 কিমি/সেকেন্ডের গতিতে ঘুরে বেরাচ্ছে। চাঁদ পৃথিবীর ভূচৌম্বকিয় পুচ্ছের ভিতরে অবস্থিত, যেখানে সাধারণত সৌরঝড়ের কোনও কনার উপস্থিতি নেই। চাঁদ পৃথিবীর চুম্বকীয় সিদের মধ্যে আবহিত যেখানে কনাপ্রবাহ কমে যায় এবং প্রোটোনের গতি কমে আসে 250-450 প্রতি/সেকেন্ডে। একমাত্র সৌরঝড়ে পড়েই মহাকাশচারীরা প্রবাহিত হতে পারেন, তবে অ্যাপোলো কম্যান্ড মডিউল এমন ভাবেই বানানো হয়েছিল যে তা সম্ভবত সৌরঝড়ের ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয়তা রোধ করতে পারে।

তবে আমরা খুবই ভাগ্যবান যে 1972 সালের সৌরঝড়ের সময় কোনও মহাকাশ অভিযান হয়। অ্যাপোলো 16 এপ্রিল মাসে ফিরে এসেছে এবং অ্যাপোলো 17 ডিসেম্বর মাসে অভিযানের জন্য তৈরি। অ্যাপোলো 8 বা 11 এর অভিযানের সময় কোনও সৌর ঝর হয় নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *